সম্পাদকীয়

দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন আমাদের মাঝে

আমাকে কেউ যদি প্রশ্ন করে সাংবিধানিক আইনের উপর আগ্রহের কারণ কি, এর উত্তর হবে এমনঃ দেশে আইনের শাসনের অভাব, দুর্বল গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার নিয়ে উদাসীনতা সহ নানা বির্তকই মূলত আমাকে সাংবিধানিক আইনের দিকে আগ্রহী করে তুলেছে।

এর বীজটা বপন করেছেন আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আরিফ রব্বানী খান স্যার। এ জগতে প্রবেশ করে যাকে দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়েছি তিনি মিজানুর রহমান খান স্যার। সংবিধান এবং সাংবিধানিক আইনের উপর তাঁর দখল সত্যি অসাধারন। সাংবিধানিক আইনের মত জটিল বিষয় তিনি কিভাবে এত সহজ করে লেখেন আমি বুঝিনা।

বাংলাদেশে খুব কম মানুষ আইন বিষয়ে পত্রিকাতে সম্পাদকীয় লেখেন, আর সাংবিধানিক আইনের উপর লেখালেখি করেন আরও কম মানুষ। মিজানুর রহমান খান দীর্ঘ দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে সাংবিধানিক আইনের উপর যেসকল বিশ্লেষণ লিখেছেন তা সত্যি প্রশংসা পাবার যোগ্য। আইন ব্যাখ্যার কলাকৌশল এবং যুক্তিপূর্ণ বিশ্লেষণ আর সত্য প্রকাশের ইচ্ছা তাঁর লেখাকে করেছে প্রাণবন্ত।

কেউ আমার সাথে দ্বিমত করবেনা যে দেশে সাংবিধানিক আইনের উপর যত গবেষনা হয়, সেখানে তাঁর লেখার রেফারেন্স থাকে না। সাংবিধানিক আইনের উপর তাঁর জ্ঞাণ বাস্তবসম্মত ও অভিজ্ঞতালব্ধ। তিনি একটা লেখা লিখতে যে পরিমাণ পরিশ্রম করেন, তথ্যের জন্য যেভাবে ছোটাছুটি করেন তা সত্যি প্রশংসা পাবার যোগ্য। আর একটা বিষয় বলতেই হবে, অনেকে যা লিখেন না বা লিখতে সংকোচবোধ করেন তিনি নির্ভয় চিত্তে তা লেখেন। কারণ আইন নিয়ে লিখতে গেলে অনেক বিষয় ভাবতে হয়। রাজনৈতিক, আদালত বা সংসদ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকে, কিন্তু মিজানুর রহমান সত্য বচন লিখতে কখনো পিছবা হন নি। এমন কি এসব লিখতে গিয়ে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, কাঁধে নিয়ে মামলা।

পাশাপাশি গবেষনামূলক লেখালেখিতে তিনি যে পান্ডিত্য দেখিয়েছেন তা অভূতপূর্ব। মূলত সাংবাদিকতার যুতসই উদাহরণ তিনি। অত্যন্ত বিনয়ী, মিষ্টভাষী, প্রচারবিমুখ মানুষ তিনি। এতটা জ্ঞানী এবং জনপ্রিয় মানুষ হয়েও যেভাবে তিনি মানুষের সাথে আচরণ করেন, বলতে দ্বিধা নেই মিজানুর রহমান খান একজন মানবিক এবং ভালো মনের মানুষ।

প্রথম আলো পত্রিকা হাতে নিয়েই আমি প্রথম সম্পাদকীয় পাতাটা দেখি, খুঁজি মিজানুর রহমান খান লিখেছেন কিনা। আমার ফেইসবুকে একটা এ্যালবাম করা আছে, তাঁর সব লেখাগুলো আমি সেখানে সংগ্রহে রাখি। আমার এমফিল থিসিস প্রপোজাল তৈরীতে তাঁর লেখা থেকে রেফারেন্স নিয়েছি। খুব ইচ্ছে এ বিষয়ে তাঁর সাথে একদিন কথা বলবো।

যখন তাঁর অসুস্থতা কথা শুনেছি, মনটা খুব খারাপ হয়েছে। তাঁর আশু সুস্থতার জন্য অনেক মানুষ দোয়া করেছেন। আমি বিশ্বাস করি তাঁর মত একজন ভাল মানুষ; সকলের ভালোবাসার পাত্র, খুব দ্রুত তিনি সুস্থ হবেন, আবার তিনি সংবিধান বিশ্লেষণে আমাদের চমকপ্রদ সব লেখা উপহার দিবেন।

মিজানুর রহমান খান স্যারের মত অকুতোভয় এবং প্রাজ্ঞ ব্যক্তি আমাদের দেশে খুব দরকার। সকল মানুষ আপনার রোগমুক্তি জন্য দোয়া করছেন, এত ভালোবাসা অবশ্যই আল্লাহ্ কবুল করবেন বলে আমরা দৃঢ়চিত্তে বিশ্বাস করি।

লেক্সমিরর পরিবারের পক্ষ থেকে মিজানুর রহমান খানের আশু আরোগ্য কামনা করছি।

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল গালিব, যুগ্ম সম্পাদক, লেক্স মিরর ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *